মে ৩১, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
ট্যানারি মালিকদের কাছে মোটা অঙ্কের বকেয়া টাকা না পাওয়ার পরেও চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই দিনাজপুরে কোরবানির পশুর চামড়া কিনেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এবার জেলায় পশুর চামড়ার ভালো আমদানি থাকলেও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় এই সম্ভাবনাময় শিল্পে চরম ধস নেমেছে।
অবস্থা এতটাই বেগতিক যে জেলার বিভিন্ন হাটে ছাগলের চামড়া মাত্র এক কাপ চায়ের দামে অর্থাৎ মাত্র ৫–১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এরই মধ্যে গবাদিপশুর চামড়ায় মারাত্মক ল্যাম্পি রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ট্যানারিগুলো চামড়া নিতে চাচ্ছে না, যার কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হচ্ছে।
জেলার ফুলবাড়ী এলাকায় নামমাত্র মূল্যে পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে, যেখানে একটি গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে অনেকে ক্ষোভে ছাগলের চামড়া ছোট যমুনা নদীর ধারের আবর্জনার স্তূপে ফেলে দিয়েছেন।
স্থানীয় আড়তদারদের মতে, সরকার নির্ধারিত মূল্যটি মূলত লবণযুক্ত চামড়ার জন্য হলেও লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মেলাতে গিয়ে তাদের প্রতি চামড়ায় বাড়তি ২০০–৩০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগরে দিন দিন ধস নামায় স্থায়ী ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১০০ থেকে কমে মাত্র ২০ জনে নেমে এসেছে।
দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সদস্য সচিব আবেদ আলী বলেন যে ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় তারা তীব্র পুঁজি সংকটে ভুগছেন। এই চরম সংকটের কারণে বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও আড়তদাররা প্রয়োজনীয় চামড়া কিনতে পারছেন না। চামড়া শিল্প থেকে যেহেতু বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, তাই এই দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের জরুরি ও সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন