এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের সুযোগ নিয়ে এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর নতুন পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, বড় কোম্পানিগুলো পরিকল্পিতভাবে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্প্রতি ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে তেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। এই বিষয়ে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিলেও সরকার এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
তবে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে কোম্পানিগুলো দেড় মাস ধরে সরবরাহ কমিয়ে এক ধরনের চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় নেই বললেই চলে। পাঁচ লিটারের বোতল কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য।বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা ইমাম উদ্দিন বাবলু জানান যে, কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ নিয়ে রীতিমতো লুকোচুরি খেলছে। তার মতে, জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে আমদানিনির্ভর অনেক পণ্যের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে।
এখন ভোজ্যতেলের কোম্পানিগুলোও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কমিয়ে দিয়ে পরোক্ষভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগে যেখানে পাঁচ লিটারের এক বোতলে ২০ টাকা কমিশন পাওয়া যেত, এখন তা মাত্র এক থেকে পাঁচ টাকায় নেমে এসেছে। কমিশন কমে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারাও এখন সয়াবিন তেল বিক্রিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অন্যদিকে, অনেক ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় পণ্য মজুত রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেরানীগঞ্জ এলাকার দোকানিরা জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের এই সংকট ঈদের পর থেকে আরও তীব্র হয়েছে। অনেক ক্রেতা তেলের বোতল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। কোথাও কোথাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৫৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খুচরা পর্যায়ে লাভের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। সরবরাহ সংকটের সুযোগে পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে গেছে। পাইকারিতে এখন প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ১৯৮ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
ভোজ্যতেলের এই কৃত্রিম সংকট নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ক্যাব। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান যে, সরকারি নজরদারির অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা বারবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। তার ভাষ্যমতে, কোম্পানিগুলো রমজান মাসের আগে থেকেই দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু তখন সফল না হওয়ায় এখন সরবরাহ ও কমিশন কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে সরকারকে দাম বাড়াতে বাধ্য করার একটি বড় চক্রান্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বাজারের এই সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। মূলত যথাযথ তদারকি না থাকলে নিত্যপণ্যের এই অস্থিরতা সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন