এপ্রিল ২, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
দেশের বাজারে টানা চার দফায় বৃদ্ধি পেয়ে স্বর্ণের দাম এখন নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস সবশেষ যে সমন্বয় করেছে, সেই অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার মূল্যবান এই ধাতুটি রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে দামের অস্থিরতার কারণেই বারবার এমন সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
গত বুধবার সকালে বাজুস নতুন করে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে, যা আজও দেশের প্রতিটি জুয়েলারি দোকানে বলবৎ রয়েছে।
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা। যারা ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের প্রতি ভরির জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা ব্যয় করতে হবে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায়।
এর আগে গত ৩১ মার্চও এক দফা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই ভরিতে তিন হাজার টাকার বেশি দাম বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৫১ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩০ বার এবং কমানো হয়েছে ২১ বার।
গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম পরিবর্তনের প্রবণতা অনেক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল।স্বর্ণের দামে এমন অস্থিরতা থাকলেও দেশের বাজারে রুপার দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বাজুস রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি। ফলে বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩০ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল। সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদা এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন