মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ডিজেল ও অকটেন আমদানির জন্য বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

ডিজেল ও অকটেন আমদানির জন্য বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী

জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরণের আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ শনিবার ছুটির দিনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের সম্ভাব্য উল্লম্ফন ও সরবরাহ সংকটের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। 

আজকের বৈঠকে প্রধানত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কাজাখস্তানের বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তেল আমদানির প্রস্তাবগুলো উপস্থাপিত হবে। অনুমোদিত হলে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল মে ও জুন মাসের দিকে দেশে পৌঁছাতে শুরু করবে।

আমদানির বিস্তারিত তথ্য: প্রস্তাবিত ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেলের মধ্যে ১৬ লাখ টনই হচ্ছে ডিজেল এবং বাকি ১ লাখ টন অকটেন। কোম্পানিভিত্তিক আমদানির রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:

ডিবিএস ট্রেডিং হাউস (ইউএই): ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন।

ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল (ইউএই): ১ লাখ টন ডিজেল।

কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট (কাজাখস্তান): ৫ লাখ টন ডিজেল।

বিপিসির তথ্যমতে, বর্তমান এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। যদিও বর্তমান মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে যেন দেশে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে সরকার। গত ৩১ মার্চও ২ লাখ ৬০ হাজার টন তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে অকটেনের সরবরাহ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই; অন্তত আগামী তিন মাস চলার মতো অকটেন বর্তমানে মজুত আছে। আজকের এই জরুরি বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা। ক্রয় কমিটিতে প্রস্তাব অনুমোদনের পর বিপিসি ঋণপত্র (এলসি) খোলার মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদান করবে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের উৎপাদন ও পরিবহন খাতকে সচল রাখতে সরকারের এই আগাম তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। বিকেলের এই বৈঠক থেকে আমদানির চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে আগামী দুই মাসের জন্য জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।