এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার বর্তমানে বেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় প্রতিদিনই মূল্যবান এই ধাতুর দাম ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস গত ১ এপ্রিল সবশেষ স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করেছে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী আজ রোববারও গ্রাহকদের বর্ধিত মূল্যে স্বর্ণ কিনতে হচ্ছে।
বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা।সবশেষ ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। বাজুস নির্ধারিত নতুন তালিকা অনুযায়ী অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও এখন উর্ধ্বমুখী।
২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে বর্তমানে ক্রেতাদের খরচ করতে হবে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা। এছাড়া যারা ১৮ ক্যারেটের অলঙ্কার কিনতে আগ্রহী তাদের প্রতি ভরির জন্য গুনতে হবে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।
স্বর্ণের এই বাজারমূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের আরও কিছু অতিরিক্ত খরচ যুক্ত করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী অলঙ্কার কেনার সময় ভরিপ্রতি মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা মেকিং চার্জ যুক্ত করতে হবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও শৈল্পিক কারুকাজের ভিন্নতা অনুযায়ী এই মজুরির পরিমাণে তারতম্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নজিরবিহীনভাবে দফায় দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে। বছরের প্রথম চার মাসের মধ্যেই এখন পর্যন্ত মোট ৫১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই দীর্ঘ সময়ে ৩০ বার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে। বারবার দাম পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি কাজ করছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশে স্বর্ণের আমদানির ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই দর নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছে বাজুস কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন