সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

দ্রব্যমূল্য নিয়ে দুঃসংবাদ দিলেন অর্থমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

দ্রব্যমূল্য নিয়ে দুঃসংবাদ দিলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী

সারাবিশ্বে পণ্যের দাম বাড়ছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও প্রকট হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। 

বিশেষ করে জ্বালানি সংকটকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্যদ্রব্যসহ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস এবং আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে এই ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন আগামী দিনে পণ্যের দাম বাড়বে এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। 

তিনি পরিষ্কার জানান যে এটি কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব প্রতিটি রাষ্ট্রকেই মোকাবিলা করতে হচ্ছে।বিশ্ববাজারের উদাহরণ টেনে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন যে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় তা বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সরকার তেলের দাম না বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে তবে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে কতদিন এই স্থিতাবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

তিনি মনে করেন নির্বাচিত সরকার হিসেবে সাধারণ মানুষের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি না হয় সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।তবে অর্থমন্ত্রী একটি সতর্ক বার্তাও প্রদান করেছেন। তিনি বলেন সরকারি তহবিল যদি এভাবে ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে তবে একসময় এই বিশাল আর্থিক চাপ বহন করা সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। যার শেষ পরিণতি হিসেবে জনগণের ওপরই সেই ভার গিয়ে পড়বে। 

ফলে বর্তমান রূঢ় বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। কোনো গুজবে কান না দিয়ে বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।এলডিসি গ্রাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী বর্তমানে ধাপে ধাপে উন্নয়নের কাজ চলছে। 

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রাগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে যেন দেশ উত্তরণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়। তিনি আরও যোগ করেন যে এখনো বাংলাদেশ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি তাই এই মুহূর্তে জাতিসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে বিষয়টি উপস্থাপনের বা গ্রাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি শেষ হলে তবেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করেন।