সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

জ্বালানি তেল নিয়ে বড় সুখবর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

জ্বালানি তেল নিয়ে বড় সুখবর

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর থেকে লাইটার জাহাজে করে অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল শুক্রবার সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির সবকটি ইউনিটে উৎপাদন শুরু হবে।বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১২টায় কুতুবদিয়া চ্যানেলে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী মাদার ট্যাঙ্কার ‘এমটি নিনেমিয়া’ নোঙর ফেলে। কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার রাত থেকেই লাইটারিং বা ছোট জাহাজে তেল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবারও পুরোদমে ক্রুড অয়েল খালাস কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকায় ডেড স্টক বা আপৎকালীন মজুদ ভেঙে একটি প্লান্ট দিয়ে স্বল্প পরিসরে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছিল। 

ট্যাংকে অপরিশোধিত জ্বালানির পরিমাণ নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে ওঠার পর তিনটি প্লান্টই চালু করা হবে। শুক্রবার সকাল থেকে তিনটি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনাগার। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এনে তা পরিশোধনের পর ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল ও এলপিজিসহ ১৮ প্রকারের জ্বালানি পণ্য বাজারজাত করে। বিপিসির হয়ে এই তেল পরিবহনের কাজ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিপিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই মাস ধরে কোনো কাঁচামাল দেশে আসতে পারেনি। সবশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি তেলের জাহাজ এসেছিল। কাঁচামাল সংকটের কারণে গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রধান তিনটি ইউনিটের দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রতি মাসে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সাধারণত এক লাখ টন ক্রুড অয়েল প্রয়োজন হয়। টানা ২২ দিন দুটি ইউনিট বন্ধ থাকার পর নতুন করে তেল আসায় আবারও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি। শুক্রবার সকাল থেকে রিফাইনারি তার সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।