মে ১৮, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভিসি নিয়োগ, হলের নিয়ন্ত্রণ, গ্রাফিতি বিতর্ক এবং নারী শিক্ষার্থী হেনস্তাসহ ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী।ক্যাম্পাসগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন তীব্র রূপ নিয়েছে। নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন, যার ফলে সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় কর্মকর্তা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই এই অসন্তোষের শুরু হয়।
সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত কর্তৃক ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর নারী শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে পৃথক তিনটি ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে রোববার রাতে প্রক্টর কার্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। হেনস্তাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বটতলায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে এই সব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে। এছাড়া ১২ মে রাতের ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট দায় নিরূপণে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের কার্যালয় ও বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় সেখানে সমস্ত শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও বাসে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধর করাকে কেন্দ্র করে লোকপ্রশাসন ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন