শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিল: আনা হলো লাখ টাকার গরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিল: আনা হলো লাখ টাকার গরু

ছবি: সংগৃহীত

ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জবাইয়ের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি লাল গরু নিয়ে আনন্দ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ঘোষিত ‘জবিয়ানদের গরু ভোজ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই মিছিলে গরুর পাশাপাশি একটি ছাগলও রাখা হয়।

সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভাস্কর্য চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো ক্যাম্পাস।

এ সময় তারা ‘লাল গরু না কালা গরু, লাল গরু লাল গরু’, ‘লালডা না কালাডা, লাল ডা লাল ডা’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘গরু খাওয়ার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ সহ বিভিন্ন ঝাঁঝালো স্লোগান দেন।

এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে হাট থেকে গরু কেনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা।

মাসুদ রানা বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ শিক্ষাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের খাদ্যাভ্যাস বা গরু খাওয়া আটকানোর দুঃসাহস দেখাতে না পারে, সেই স্পষ্ট বার্তা দিতেই এই গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রশাসনের জারিকৃত বিতর্কিত আদেশ উপেক্ষা করেই ঘোষিত এই কর্মসূচি শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও খাদ্যাভ্যাসকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে গরুর পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একটি ছাগলও কেনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থায়নের বিষয়ে জকসুর এই নেতা জানান, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব নিবন্ধন থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়েছে।

এর বাইরে দেশ ও বিদেশ থেকে সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নানাভাবে আর্থিক অনুদান পাঠিয়েছেন।

এসব সম্মিলিত অর্থায়নেই এক লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এই পশুটি কেনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে। পুরো আয়োজনের রান্নার পরিধি ও বিতরণ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে যেকোনো ধরনের পশু জবাই করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কড়া নির্দেশনা দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

জনস্বাস্থ্য রক্ষা, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার যুক্তি তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে এই আদেশ অমান্য করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে জকসুর উদ্যোগে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সেই সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় অবিলম্বে মানসম্মত গরু ও খাসির মাংস নিয়মিত পরিবেশন এবং ক্যাম্পাসে সবার জন্য অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ‘জবিয়ানদের গরু ভোজ’ কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হয়, যেখানে ভোজের খরচ বাবদ আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৭০ টাকা করে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল।