এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন আলোচিত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। আজ রোববার ৫ এপ্রিল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। গত কয়েকদিন ধরে কারাগারে থাকার পর অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে আজ আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমরান হোসেন নোবেলের জামিন চেয়ে নতুন করে আবেদন করেন। এর আগে গত ২ এপ্রিল ধার্য তারিখে জামিন শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগে আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ নোবেলের উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় অভিযোগ গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী নোবেলের কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
এই মামলার প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ ও বিতর্কিত। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি আদালত নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বটতলা এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে আপসের শর্তে তিনি প্রথমবার জামিন পেয়েছিলেন। তবে গত ২ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় বাদীপক্ষ অভিযোগ করে যে নোবেল জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করেছেন। এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত সেদিন তাঁর জামিন বাতিল করেছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী আনাননিয়া শবনম রোজ নামের এক তরুণী গত বছরের ১৩ আগস্ট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয় ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীর কাছ থেকে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন নোবেল। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পিবিআই চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পায় এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
গায়ক নোবেল ছাড়াও এই মামলায় তাঁর মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া এবং সহকারী মুনেম শাহ সৌমিকসহ পরিচিত মাসুদ রানাকে আসামি করা হয়েছে। প্রতারণার কাজে তাঁরা নোবেলকে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। রিয়েলিটি শো দিয়ে আলোচনায় আসা এই গায়কের ব্যক্তিগত জীবন ও আইনি জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আজকের জামিন আদেশের পর নোবেল তাঁর আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন তবে মামলার অভিযোগ গঠন ও পরবর্তী শুনানিতে তাঁকে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন