মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ই-কমার্স ঝুঁকি: এক ভুলে হারাতে পারেন সারা জীবনের সঞ্চয়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

মার্চ ২৭, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

ই-কমার্স ঝুঁকি: এক ভুলে হারাতে পারেন সারা জীবনের সঞ্চয়

অনলাইনে নিরাপদ কেনাকাটা

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনযাত্রায় প্রযুক্তির সহজলভ্যতা আমাদের জীবনকে অনেকটাই অনলাইন নির্ভর করে তুলেছে। এক ক্লিকেই জামাকাপড় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এখন ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। তবে এই অবারিত সুবিধার সমান্তরালে বাড়ছে এক ভয়াবহ অদৃশ্য ঝুঁকি। সাইবার অপরাধীরা এখন কেবল সাধারণ পাসওয়ার্ড নয় বরং মানুষের ডিজিটাল পরিচয় এবং সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হাতিয়ে নিতে ওত পেতে আছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ই-কমার্স খাতে জালিয়াতির ধরন এতটাই আধুনিক ও উন্নত হয়েছে যে সামান্য অসতর্কতা যে কারো জন্য চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সাইবার অপরাধীদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো ফিশিং এবং ভুয়া অ্যাপের ফাঁদ। হ্যাকাররা এখন হুবহু নামী ই-কমার্স সাইটের মতো দেখতে ওয়েবসাইট তৈরি করে সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে। অনেক সময় জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবিশ্বাস্য ডিসকাউন্ট কুপন পাঠিয়ে নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করতে প্ররোচিত করা হয়। 

এছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ স্টোরে নামী প্রতিষ্ঠানের আদলে ভুয়া অ্যাপও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অফিসিয়াল এবং ভেরিফাইড অ্যাপ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে কেনাকাটা করা ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশের পথ খুলে দেয় যা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।অধিকাংশ ই-কমার্স অ্যাপ কেনাকাটার সময় কার্ডের তথ্য সংরক্ষণের প্রস্তাব দেয় যা পরবর্তী কেনাকাটা সহজ করলেও নিরাপত্তার দিক থেকে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। যদি কোনো কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের সার্ভার হ্যাক হয় তবে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য সরাসরি হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেনিফার আলমের মতে মানুষ প্রায়ই সুযোগ হারানোর ভয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভুল করে। হ্যাকাররা মূলত অস্বাভাবিক ছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের যৌক্তিক চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পণ্য দেখার আগে অগ্রিম পেমেন্ট করা এবং অপরিচিত পেজে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে ডেলিভারি স্ক্যাম ও ওটিপি হাইজ্যাকিংয়ের মতো নতুন ধরনের জালিয়াতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সময় পার্সেল নিশ্চিত করার নাম করে ফোনে ওটিপি জানতে চাওয়া হয় যা মূলত গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি অপকৌশল। কারিগরিভাবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন ফর্মজ্যাকিং নামক ভয়ংকর আক্রমণ দেখা যাচ্ছে যেখানে বৈধ সাইটের পেমেন্ট পেজে অদৃশ্য কোড ঢুকিয়ে তথ্য চুরি করা হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে ডেডিকেটেড সিকিউর ব্রাউজার বা ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা আধুনিক ও নিরাপদ উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিরাপদ অনলাইন কেনাকাটার জন্য বিশেষজ্ঞ রাইয়ান এ মালিক কিছু গোল্ডেন রুলস মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউআরএল যাচাই করা টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা এবং অপরিচিত সাইটের ক্ষেত্রে ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশন বেছে নেওয়া। কেনাকাটার সময় পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা এবং রিভিউর সত্যতা যাচাই করাও অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করলেও একে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব ব্যবহারকারীর নিজের। কোনো ধরণের সাইবার অপরাধের শিকার হলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার মাধ্যমে আইনি প্রতিকার নেওয়া সম্ভব।