এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পাম্পে তেল মিললেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক। পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার এবার কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ফুয়েল পাস পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত তেল কেনা এবং অবৈধ মজুত রোধ করাই এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।প্রস্তাবিত এই পদ্ধতির আওতায় প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড বরাদ্দ করা হবে।
গ্রাহক যখন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে যাবেন, তখন পাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ওই কোডটি স্ক্যান করবেন। স্ক্যান করার সাথে সাথেই ওই যানবাহনের যাবতীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয় সিস্টেমে জমা হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহজেই তদারকি করতে পারবে যে, কোন গাড়িটি কখন এবং ঠিক কতটুকু জ্বালানি সংগ্রহ করছে।
মূলত সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতেই এই প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম মোটরসাইকেল দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভিড় কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া এই পদ্ধতির মাধ্যমে আতঙ্কিত হয়ে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা বন্ধ করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একজন গ্রাহক কতটুকু তেল নিতে পারবেন, তাও এই সিস্টেমে নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে।এ জন্য জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (fuelpass.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে।
ডিজিটাল ফুয়েল পাস পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ ও অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে। আগ্রহীদের প্রথমে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চ্যাসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি বা এককালীন পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সফলভাবে নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারী তার নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে কিউআর কোড এবং আগের লেনদেনের তথ্য দেখতে পাবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে আসবে। তবে এটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আগেভাগেই অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে সেবাটি চালু হওয়ার সাথে সাথেই তাঁরা এর সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এর মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন