জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে মিয়ানমার। তবে দেশটির এমন ভিত্তিহীন দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদের কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ বলছে মিয়ানমার তাদের পরিকল্পিত জাতিগত নির্মূল অভিযানকে আড়াল করতে এবং বিশ্ববাসীর মনোযোগ সরাতে রোহিঙ্গাদের ওপর ‘বাঙালি’ পরিচয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এটি মূলত ২০১৬ ও ১৭ সালে সংঘটিত নৃশংস অপরাধ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ঘোরানোর একটি অপকৌশল মাত্র।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে আইসিজেতে মিয়ানমার কর্তৃক সাম্প্রতিক এই আবেদনের প্রতি বাংলাদেশ গুরুতর আপত্তি জানাচ্ছে।
মিয়ানমার অবৈধ অভিবাসনের একটি মিথ্যা আখ্যান তৈরি করে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজের দেশ থেকে বিতাড়নের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে চাইছে। অথচ ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী যারা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেও শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে।
আরাকানের প্রাচীন রাজধানী মায়ো-হাউং বা রোহাউং-এ তাদের দীর্ঘ উপস্থিতির কারণে তাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডাকা হলেও তারা ঐতিহাসিকভাবে ওই অঞ্চলেরই আদি বাসিন্দা।মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে বার্মার আরাকান এবং বর্তমান রাখাইনের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের গভীর ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক শিকড় রয়েছে। আধুনিক সীমানা নির্ধারণের বহু আগে থেকেই এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি সুপ্রতিষ্ঠিত। ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনীতি সমাজ এবং সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
এমনকি তারা নিয়মিত ভোটাধিকারও ভোগ করত যতক্ষণ না ২০১৫ সালের নির্বাচনের সময় তাদের জোরপূর্বক সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ ডাকার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা মূলত তাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও ভাষা রয়েছে যা চট্টগ্রামের উপভাষার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকলেও বাংলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তিতেও এই সম্প্রদায়কে বার্মার বৈধ বাসিন্দা হিসেবে মিয়ানমার স্বীকার করে নিয়েছিল। অথচ এখন তারা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে সেই সত্য অস্বীকার করছে। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের এই ধরণের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন