সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

পাকিস্তানে বিয়েবাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে ৫ জনের মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

পাকিস্তানে বিয়েবাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে ৫ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দেরা ইসমাইল খান শহরে একটি বিয়েবাড়িতে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আনন্দঘন মুহূর্তে অতর্কিত এই বিস্ফোরণে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে বিস্ফোরণে আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন যাদের স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে দেরা ইসমাইল খান ‘পিস কমিটি’র বা শান্তি কমিটির প্রধান নূর আলম মেহসুদের বাড়িতে এই বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই শান্তি কমিটিতে মূলত পাকিস্তান সরকারের কাছে আত্মসমর্পণকারী সাবেক তালেবান সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। 

ধারণা করা হচ্ছে সেই প্রতিহিংসা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন অতিথিরা যখন আনন্দ করছিলেন তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে যার ফলে ঘরের ছাদ ধসে পড়ে অনেকে আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন।এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে গত কয়েক মাস ধরে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) তাদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। 

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই ধরণের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে পরোক্ষভাবে মদত দেওয়া হচ্ছে। যদিও আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে এবং এটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই ঘটনার পর দেরা ইসমাইল খান শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। শান্তি কমিটির নেতাদের লক্ষ্য করে সম্প্রতি এ ধরণের হামলা ওই অঞ্চলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন যে এর ফলে ওই এলাকায় পুনরায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং পুলিশ যৌথভাবে ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।