মার্চ ৬, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় নিজেদের দায় থাকার উচ্চতর সম্ভাবনা দেখছে মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা। গত শনিবার দক্ষিণ ইরানের মিনাভ শহরে পরিচালিত ওই হামলায় অন্তত ১৫০ জন স্কুলছাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছে বলে ইরান দাবি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
যদিও তদন্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং পেন্টাগন পূর্ণাঙ্গ কোনো উপসংহারে পৌঁছাতে পারেনি, তবে প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী এই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীই দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন যে সামরিক বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তিনি জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না, তবে মিনাভের ওই নির্দিষ্ট ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার রেকর্ড ইরানেরই রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নয়।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে এই হামলায় কী ধরণের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা কেন এই স্কুলটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
তবে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে এলে মার্কিন বাহিনীর ওপর থেকে এই দায় সরে যেতে পারে এমন সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর থেকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী কোনো স্কুল বা হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত ছাত্রীদের শেষ বিদায়ের করুণ চিত্র প্রচার করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে ছাত্রীদের কফিনগুলো ইরানের পতাকায় মোড়ানো এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। উল্লেখ্য যে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার প্রথম দিনেই এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি ঘটে। ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম ইরানে হামলা চালালেও মার্কিন বাহিনী মূলত দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও নৌ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আক্রমণ করছিল। যদি তদন্তে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের লড়াইয়ে এটি অন্যতম বড় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বার্তা: রয়টার্স


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন