সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্লেষকরা তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর পূর্বাভাস দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে নতুন করে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেল গত ৯ মার্চ প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায় এবং এর পর থেকে দাম আর ১০০ ডলারের নিচে নামেনি। গত ১৮ মার্চ ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এবং পরবর্তীতে কাতার ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের পর এই বাজার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমান সংকটের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট সরবরাহকৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। 

এই প্রণালীটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসবে এবং এর সরাসরি প্রভাবে তেলের দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যাবে। তেলবাজার বিশ্লেষক বন্দনা হরি জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু নির্দিষ্ট তেলের দাম ইতিমধ্যে ১৫০ ডলার অতিক্রম করেছে। তিনি মনে করেন হরমুজ প্রণালী কতদিন বন্ধ থাকে তার ওপরই নির্ভর করছে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে কি না। সংঘাতের শুরুতে ইরান এই পথ বন্ধের ঘোষণা দিলে নৌ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে সেখানে সীমিত পরিসরে কেবল চীন ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে।

এদিকে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে প্রতিদিনের প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি এই মজুত দিয়ে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। তেলের এই আকাশচুম্বী দাম বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। 

সংস্থার হিসাব অনুযায়ী তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে তা শুধু জ্বালানি নয় বরং সার, প্লাস্টিক ও পরিবহনসহ সব ধরনের শিল্পখাতে বড় ধাক্কা হয়ে আসবে। বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন মূলত হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে।