সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উত্তর কোরিয়ায় ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী কিম জং-উন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৯, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

উত্তর কোরিয়ায় ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী কিম জং-উন

ভোট দিচ্ছেন কিম জং-উন

উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং-উন। গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে কিমের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এবং তাদের মিত্র দলগুলো ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। তবে এই বিপুল জয়ের চেয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বর্তমানে বেশি আলোচনায় এসেছে বাকি ০.০৭ শতাংশ ভোট। 

এই সামান্য পরিমাণ ভোট মূলত সরকারি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া ‘না’ ভোট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে যে নির্বাচনে কোনো বিরোধী প্রার্থী ছিল না বরং প্রতিটি আসনে ভোটারদের সামনে একজন অনুমোদিত প্রার্থীকেই রাখা হয়েছিল। 

ভোটারদের কেবল সেই প্রার্থীকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দেওয়া হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৫৭ সালের পর এই প্রথম দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নির্বাচনে ‘না’ ভোট পড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। 

উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থায় সাধারণত শতভাগ ভোট পড়ার এবং সরকারি প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ জয়ের ঐতিহ্য থাকলেও এবারের এই সামান্য নেতিবাচক ভোট দেওয়াকে অনেকে সরকারি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী ও সামরিক প্রতিনিধিসহ মোট ৬৮৭ জন সদস্য পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন। কিম জং-উন তার বাবা কিম জং-ইলের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নিজের অবস্থান সুসংহত করে চলেছেন।

উল্লেখ্য যে ২০১৯ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের ওপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে সামরিক ও সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। কিমের এই পুনর্নির্বাচন উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিরোধীহীন এই নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো সমালোচনা করলেও পিয়ং ইয়ং একে তাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দাবি করছে।