মার্চ ২২, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট উত্তজনার কারণে ইরাক থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থা এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ইআইএ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী গত এক সপ্তাহে ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানির হার দৈনিক তিন লাখ নয় হাজার ব্যারেল থেকে নেমে মাত্র এক লাখ ১৩ হাজার ব্যারেলে এসে ঠেকেছে।
অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইরাকি তেলের আমদানি কমেছে প্রায় এক লাখ ৯৬ হাজার ব্যারেল যা বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহ করা ওয়াশিংটনের জন্য বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে আমদানির হার কমলেও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল আমদানির পরিমাণ পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের নয়টি প্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ব্যারেল তেল সংগ্রহ করছে যা গত সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই বেশি।ইরাক থেকে আমদানি হ্রাস পেলেও তেলের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কানাডা মেক্সিকো এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা গেছে তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ হিসেবে কানাডা শীর্ষে রয়েছে।
এছাড়া সৌদি আরব ইকুয়েডর কলম্বিয়া ব্রাজিল এবং নাইজেরিয়া থেকেও নিয়মিত তেল সংগ্রহ করছে দেশটি। উল্লেখ্য যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেলের প্রয়োজন হয়। এই বিশাল চাহিদার একটি বড় অংশই দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যেকোনো সংকট মার্কিন জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন