বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীন-পাকিস্তানের ৫ দফা প্রস্তাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীন-পাকিস্তানের ৫ দফা প্রস্তাবনা

বেইজিংয়ে দুই দেশের বৈঠক

ইরানের সাথে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ বন্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে চীন ও পাকিস্তান। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার আহ্বান জানানো হয়। একইসাথে হরমুজ প্রণালীসহ স্পর্শকাতর নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে দেশ দুটি। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই খবর প্রকাশ করেছে।মঙ্গলবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অংশ নেন। 

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফেরাতে সামরিক শক্তির ব্যবহার কোনো সমাধান হতে পারে না। বরং আলাপ-আলোচনা এবং কূটনীতিই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ। 

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয় বৈঠকে।সংঘাত নিরসনে দুই দেশ মূলত পাঁচ দফা একটি বিশেষ উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। এই প্রস্তাবনার প্রথম দিকেই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং যুদ্ধের পরিধি আর না বাড়ানো। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষা করে দ্রুত শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সব পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় যে, বেসামরিক মানুষ এবং জ্বালানি অবকাঠামোর মতো অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বেইজিং ও ইসলামাবাদ।উদ্যোগের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় দেশ দুটি। 

সবশেষে জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি টেকসই ও স্থায়ী শান্তি কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে চীন ও পাকিস্তান। দুই দেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে একাধিকবার সোচ্চার হলেও এবারই প্রথম চীন ও পাকিস্তান মিলে এমন সুনির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাবনা সামনে আনলো।