এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১০:০২ এএম
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত আকাশসীমায় একটি ‘শত্রু’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। শুক্রবার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশিত হয়। কেশম দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে এই বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তবে রহস্যজনকভাবে বিমানটি ঠিক কোন দেশের সামরিক বাহিনীর ছিল, সে সম্পর্কে আইআরজিসির পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায় যে দেশের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়। ইরানের প্রতিরক্ষা বিভাগের দাবি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যখনই এই রহস্যময় বিমানটি প্রবেশ করে, তখনই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তা মাঝ আকাশেই বিধ্বস্ত হয়।
আইআরজিসির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার পর যুদ্ধবিমানটি হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী উপসাগরের গভীরে গিয়ে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা সাগরের পানিতে তলিয়ে যায়।পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্প্রতি ইরান এবং মার্কিন জোটের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এমন ঘটনা নতুন করে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। যদিও আইআরজিসি সরাসরি কোনো দেশের প্রতি অভিযোগ তোলেনি, তবুও এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে হেনগাম দ্বীপ ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দলগুলো বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনার ফলে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বড় ধরণের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে ওই এলাকায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন