মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

সেনাপ্রধানের পর এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকেও সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

সেনাপ্রধানের পর এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকেও সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প

পদ হারালেন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পাম বন্ডির কার্যক্রমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগেও বড় ধরণের রদবদল আনা হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন নথি প্রকাশে ধীরগতি এবং প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ ছিলেন। 

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পাম বন্ডিকে একজন দেশপ্রেমিক ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করলেও তাঁর প্রশাসনিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বন্ডির পরিবর্তে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টোড ব্যালান্স সাময়িকভাবে বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

পদ হারানোর পর পাম বন্ডি এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করার লক্ষ্যে কাজ করতে পারা তাঁর জন্য জীবনের বড় সম্মানের বিষয় ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর মেয়াদে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রথাগত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

বিশেষ করে এপস্টেইন মামলা তদন্তে গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নথি জনসমক্ষে আনতে বিলম্বের কারণে বন্ডি সমালোচিত হচ্ছিলেন।একই দিনে পেন্টাগনেও বড় ধরণের ছাঁটাই অভিযান শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ সামরিক বাহিনীর দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন মার্কিন আর্মির ট্রান্সফরমেশন ও ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান ডেভিড হোডনি এবং চ্যাপলিন কোরের প্রধান উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রিপস এই কর্মকর্তাদের অপসারণের খবর নিশ্চিত করেছে।

যদিও পেন্টাগন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি প্রদান করেনি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নিজের পছন্দের ও অনুগত ব্যক্তিদের বসানোর প্রক্রিয়া হিসেবেই এই গণবরখাস্তকে দেখা হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন বিচার বিভাগ এবং সামরিক কমান্ডে বড় ধরণের নীতিগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে আরও অনেক শীর্ষ কর্মকর্তার পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।