এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক ঘণ্টার হামলায় কারাজ শহরের একটি জনবহুল সেতুতে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটে যেখানে অন্তত ৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
কেবল সাধারণ স্থাপনা নয়, বরং আহবাজ ও ইসফাহান প্রদেশের বৃহত্তম দুটি ইস্পাত কারখানাগুলোতেও বড় ধরণের বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া তেহরানের একটি পুরোনো চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রকেও লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকেনি যৌথ বাহিনী যা মানবিক সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাল্টা জবাব দিতে খুব একটা দেরি করেনি ইরানও। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯১তম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বিশেষ করে ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিব এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইলিয়াত শহর লক্ষ্য করে একঝাঁক মিসাইল ছুড়েছে তেহরান। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও পেতাহ তিকভা শহরের আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বড় ধরণের কোনো প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
সংঘাতের এই বিস্তার কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং তা এখন ডিজিটাল ও আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন টেক জায়ান্ট ওরাকলের ডেটা সেন্টার লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েল লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অস্থিরতায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তা ও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে আগামী কয়েকদিন এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন