এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত আজ ৩৩তম দিনে পৌঁছেছে। একের পর এক সামরিক হামলা, পাল্টা আক্রমণ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির মাঝে পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনাকর। এই সংকটের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর ও নতুন বার্তা দিয়েছে তেহরান।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই প্রধান পথটি এখন কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা নতুন কঠোর নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা তাদের কোনো মিত্র দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে শুধুমাত্র ‘আগ্রাসীদের সঙ্গে সম্পর্কহীন’ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সমন্বয় সাপেক্ষে এই পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাবে। তেহরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পাতা কোনো ধরণের ‘ফাঁদে’ পা দেবে না এবং কোনো ফলহীন যুদ্ধবিরতির আলোচনাও এখন আর মেনে নেওয়া হবে না।সংঘাতের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি।
বরং ইরান এখন হিজবুল্লাহ এবং হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধে দ্রুত জয়ের আশা প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করলেও ইরানের প্রতিরোধ তাদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
যুদ্ধের এই ভয়াবহতায় ইতিমধ্যে ইরানে অন্তত ২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটির বেশ কিছু জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং ওমানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের এই কঠোর বিধিনিষেধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে যা শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন