এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ বি-১ সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন এক তুঙ্গে পৌঁছেছে। এই ধ্বংসাত্মক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এবার প্রতিবেশী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশের আটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এই তালিকাটি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এই সেতুগুলোকে নিজেদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের তৈরি করা এই ‘হিট-লিস্টে’ স্থান পেয়েছে কুয়েতের বিখ্যাত শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সি ব্রিজ। এর পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু— শেখ জায়েদ, আল মাকতা এবং শেখ খলিফা ব্রিজ।
এছাড়াও সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্ত করা একমাত্র পথ কিং ফাহাদ কজওয়ে এবং জর্ডানের কিং হুসেইন, দামিয়া ও আবদুন ব্রিজকেও টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করেছে তেহরান। এই দেশগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণেই তাদের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।উল্লেখ্য যে গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ ও প্রকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বি-১ সেতুটি আংশিক ধ্বংস হয়ে যায়।
তেহরানকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে নির্মাণাধীন ১৩৬ মিটার উচ্চতার এই সেতুটিতে হামলার ফলে অন্তত ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৯৫ জন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার’ যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন সেই হুশিয়ারির পরপরই এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করছে তেহরান। আলবোরজ প্রদেশের উপ-গভর্নর ঘোদরাতোল্লাহ সাইফ জানিয়েছেন হামলার পর সেতুর একটি বড় অংশ নদীতে ভেঙে পড়েছে যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে হামলার পর বিশাল ওই অবকাঠামো থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়া উড়ছিল। খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পও একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যেখানে তেহরান থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কৌশলগত সেতুর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন ইরান যদি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আরবের এই আটটি সেতুতে হামলা চালায় তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করবে। জ্বালানি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য অপরিহার্য এই সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন