মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, নিহত ৮ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, নিহত ৮ জন

ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার রাতের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনটির মাত্রা ছিল ৫.৮ এবং এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। 

শক্তিশালী এই কম্পন শুধু আফগানিস্তান নয়, বরং পাকিস্তান ও ভারতের বিস্তৃত এলাকাকেও কাঁপিয়ে দিয়েছে। গভীরতার কারণে কম্পনটি অনেকটা সময় ধরে স্থায়ী ছিল এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনুভূত হয়েছে।

আফগান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাখতার নিউজের তথ্য অনুযায়ী, কাবুল প্রদেশের বাগরামি জেলায় ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে এবং সেখানেই ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধারকারী দল পাহাড়ি এলাকায় কাজ করছে। তবে দুর্গম এলাকা এবং রাতের অন্ধকারের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর এই কম্পনের মাত্রা ৬.২ রেকর্ড করেছে। ইসলামাবাদ ছাড়াও খাইবার পাখতুনখোয়া এবং গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়। 

অন্যদিকে ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ জম্মু-কাশ্মির, পাঞ্জাব ও উত্তরাঞ্চলেও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে গভীর রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা এবং শ্রীনগরের মতো শহরগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে কম্পন অনুভূত হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে গভীরতার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা কাঁপলেও ভারতের অংশে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ভৌগোলিকভাবে সক্রিয় হিন্দুকুশ ফল্ট লাইনের কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই এমন মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে। গত বছরের ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এই দুর্যোগ আফগান জনগণের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে এবং সরকার জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে মাটির নিচে টেকটোনিক প্লেটের অস্থিরতার কারণে সামনের দিনগুলোতেও আফটার শক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।