মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রাম্পের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

ট্রাম্পের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে ইরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন এক জটিল ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। যেখানে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে ইরানের আকাশসীমা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, সেখানে বাস্তবে একের পর এক মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা সেই দাবিকে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর দুইজন ক্রু সদস্যের অবস্থা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের হদিস এখনো মেলেনি।

এর আগে গত শুক্রবারও ইরান আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমানে আঘাত হানলে সেটি বিধ্বস্ত হয়, যদিও ওই বিমানের পাইলট সময়মতো বেরিয়ে এসে জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হন। 

পেন্টাগনের সরবরাহকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। এই হতাহতের পরিসংখ্যানে সেনাবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন, মেরিন সদস্য ১৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। যদিও এই ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক বাহিনীর তুলনায় সংখ্যায় কম, তবুও এটি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশসীমা’ বা ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ সংক্রান্ত বাগাড়ম্বরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে দাবি করেছিলেন যে, ইরানের আকাশসীমা এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন যে, তেহরানের ওপর দিয়ে মার্কিন বিমান অনায়াসে উড়ছে এবং ইরানের কোনো কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। কিন্তু রণক্ষেত্রের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো সক্রিয় এবং ধ্বংসাত্মক। 

এটি কেবল সামরিক ব্যর্থতা নয়, বরং ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় ধরণের রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। মার্কিন জনগণের বড় একটি অংশ এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

পেন্টাগন দাবি করছে যে গণমাধ্যম তাদের সাফল্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরছে না, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে—গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো এখনো নিরাপদ নয় এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার দাবিগুলোও অতিরঞ্জিত ছিল। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সেই ‘অহংকার’ এখন ইরানের মাটিতে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম পরীক্ষার সম্মুখীন।

সিএনএনের প্রতিবেদন।