মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানে পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, জাতিসংঘের ‘গভীর উদ্বেগ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

ইরানে পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, জাতিসংঘের ‘গভীর উদ্বেগ’

বুশেহর কেন্দ্রে হামলার পর উদ্বেগ

ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বুশেহরে চতুর্থবারের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলমান ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন যুদ্ধের মধ্যে এই হামলাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, এই সর্বশেষ হামলায় কেন্দ্রের একজন কর্মচারী নিহত হয়েছেন। তেহরান এই হামলার জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। যদিও ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। 

আইএইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হামলার খবর পেয়েছে এবং সাইটটি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। 

সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনা কখনোই হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয় এবং একটি বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রয়োজন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৭ মার্চ ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছেন। তবে শনিবার তিনি তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‍‍`ট্রুথ সোশ্যাল‍‍`-এ পুনরায় হুমকি দিয়ে বলেন, যদি পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান কোনো সমঝোতায় না আসে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তাদের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’। ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির মধ্যেই বুশেহরে হামলার ঘটনাটি ঘটল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়া বুশেহর কেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে কেন্দ্রে থাকা ১৯৯ জন কর্মীর মধ্যে ১৮৮ জনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় পশ্চিমা দেশগুলোকে আক্রমণ করে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে সংঘাত নিয়ে পশ্চিমাদের অনেক উদ্বেগ দেখা গিয়েছিল। 

কিন্তু এখন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বুশেহর কেন্দ্রে চারবার বোমা হামলা চালিয়েছে। মনে রাখবেন, এখানে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা উপসাগরীয় দেশগুলোর জনজীবনকেও বিপন্ন করে তুলবে।’যুদ্ধ শুধুমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাহশহর ও বন্দর ইমামের পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের শিক্ষামন্ত্রী হোসেন সিমাই সররাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। 

শুক্রবার তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘প্রস্তর যুগের’ মানসিকতার অধিকারী বলে মন্তব্য করেন। এদিকে, শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এখনও একজন নিখোঁজ মার্কিন ক্রু মেম্বারের সন্ধানে ইরানি ও মার্কিন বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্পের দেওয়া পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বিশ্বের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।