এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কঠোর ও সরাসরি হুঁশিয়ারি বার্তা প্রদান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইরানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো ধরণের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে নরকের দ্বার খুলে যাবে।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেসটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের প্রভাবশালী কমান্ডার আলী আব্দোল্লাহি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য যে এই বিশেষ ইউনিটটি মূলত ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পসের মধ্যে রণকৌশল ও সমন্বয়ের কাজ করে থাকে। আব্দোল্লাহি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিপূর্বে ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন সেটি অত্যন্ত আগ্রাসী এবং এক ধরণের যুদ্ধোন্মাদ পদক্ষেপ।
ইরানি এই কমান্ডারের ভাষায় তারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যা বলেছেন তা সবসময়ই বাস্তবে বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যদি ইরানের ওপর কোনো ধরণের আক্রমণ চালানো হয় তবে তার উপযুক্ত জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও ধারাবাহিক আঘাত হানা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ নামক একটি পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। এই অভিযানের আওতায় ইতিমধ্যে শত্রু শিবিরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের হতাহতের একটি নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে যে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৩ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এই একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৬৫ জন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য। মিডল ইস্ট আইয়ের একটি প্রতিবেদনে পেন্টাগনের এই বিবৃতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আহতদের তালিকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী আহতদের মধ্যে ২৪৭ জন মার্কিন আর্মি সেনা এবং ৬৩ জন নৌবাহিনীর নাবিক রয়েছেন। এছাড়া ১৯ জন মেরিন কর্পস এবং ৩৬ জন বিমানবাহিনীর বিমানসেনা এই যুদ্ধের জেরে বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।
তবে একই দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় যারা হতাহত হয়েছেন তাদের সংখ্যা এই তালিকায় যোগ করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখা পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে যা যেকোনো সময় আরও বড় ধরণের সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন