এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর নিজেদের প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে সাময়িক স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আজ বুধবার ৮ এপ্রিল এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া দুই সপ্তাহের এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তেহরান এই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আব্বাস আরাগচি তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে যদি ইরানের ওপর সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ রাখা হয়, তবে দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের চলমান প্রতিরোধমূলক সামরিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে। একই সাথে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়েও একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইরান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তবে এই যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রাখতে হবে এবং কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিতে হবে।আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে এই চুক্তির একটি বিশেষ অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের অনুমতি পাবে ইরান ও ওমান।
দীর্ঘদিনের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক এই জলপথে টোল আরোপের বিষয়টি এটিই প্রথম। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান ও ওমানের যৌথ জলসীমানাগত অধিকার থাকায় এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অর্জিত এই অর্থ ইরান দেশের পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহ এই নৌপথটি উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের সামরিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার কথা রয়েছে। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল এলাকা সচল হওয়ার এই সংবাদ বিশ্ববাজারে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন