এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১১:১০ এএম
ইরানের সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে গোলাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন। তবে গোলাবর্ষণ বন্ধের এই নির্দেশ দিলেও শত্রুপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক বিরতি মানেই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়।
বিবৃতিতে খামেনি উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীর সকল শাখার উচিত সর্বোচ্চ নেতার এই আদেশ মেনে চলা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের অবসান হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
বরং কৌশলগত কারণেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, দেশটি এখনো উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির যেকোনো পরিবর্তনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছে।
তেহরান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই স্থায়ী শান্তি বা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি বোঝায় না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা নতুন করে হামলা মোকাবিলায় ইরানি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরানের হাত এখনো বন্দুকের ট্রিগারেই রয়েছে এবং শত্রুর যেকোনো পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ একটি পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয় যে, এই সামরিক বিরতির অর্থ এই নয় যে সংঘাত শেষ হয়ে গেছে। পরিষদ সতর্ক করে দিয়েছে যে, শত্রুপক্ষের পক্ষ থেকে যদি সামান্যতম ভুল বা উসকানি দেখা যায়, তবে ইরান তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে। তাদের এই কঠোর অবস্থান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনারই একটি অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনীর সকল উইং সর্বোচ্চ নেতার আদেশ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। তবে সীমান্ত এলাকাগুলোতে এবং কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে সেনাদের অবস্থান আগের মতোই সজাগ রাখা হয়েছে।
তেহরানের এই দ্বিমুখী বার্তা—একদিকে গোলাবর্ষণ বন্ধ এবং অন্যদিকে ট্রিগারে হাত রাখা—বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শনে কোনো ছাড় দেবে না। এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হয়, তা এখন নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আচরণের ওপর।
সূত্র: এনডিটিভি


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন