এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল ও সর্বাত্মক বিজয় বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে এই সমঝোতার মাধ্যমে ওয়াশিংটন কেবল সামরিক শ্রেষ্ঠত্বই নয় বরং কূটনৈতিকভাবেও শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। আজ বুধবার ৮ এপ্রিল সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর এই খুশির কথা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ বিজয় এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্নের অবকাশ নেই। এই চুক্তির অধীনে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান যে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের পথে এগোতে না পারে সেই বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় তিনি এই সমঝোতায় আসতেন না বলে দাবি করেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের বিশ্বাস যে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে চীন একটি পর্দার আড়ালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।এদিকে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট জাহাজ চলাচলের জট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন।
তিনি জানান যে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় তদারকি বজায় থাকবে। ট্রাম্পের মতে এই চুক্তির ফলে ইরান পুনরায় তাদের দেশ পুনর্গঠনের তহবিল জোগাড় করার সুযোগ পাবে যা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি সোনালি যুগের সূচনা করতে পারে। এর আগে জানা গিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরান নির্দিষ্ট ফি আদায় করতে পারবে যা তাদের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ব্যবহৃত হবে।
ট্রাম্পের এই বিজয় দাবির বিপরীতে ইরান এখনো তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার না করলেও দুই সপ্তাহের এই সাময়িক বিরতিকে একটি বড় কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই নাটকীয় মোড় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব ফেলে কি না এখন সেটিই দেখার বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন