মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ঘিরে ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ঘিরে ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পাকিস্তান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদকে এক দুর্ভেদ্য নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলেছে দেশটির সরকার। আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চ-পর্যায়ের এই শান্তি আলোচনাকে ঘিরে পুরো শহরে প্রায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলা এড়াতে এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদের রেড জোন বা সরকারি এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সচিবালয় ভবন, বিদেশি কূটনৈতিক এলাকা এবং শহরের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ও রেঞ্জার্স বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্সকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। 

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে রেড জোনের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরাসরি সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দুই দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের রেড জোনের ভেতরে একটি সুরক্ষিত পাঁচতারা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।শহরজুড়ে প্রতিনিধিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে অন্তত ২০টি নতুন চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে যেখানে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইসলামাবাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। 

তবে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সচিব আরি ফ্লেইশার পাকিস্তানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে দেশটির সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হতে পারে।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ কার্গো বিমান বৃহস্পতিবার বিকেলেই নূর খান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। সেই বিমানে স্পেশাল ফোর্স ও আধুনিক কারিগরি সরঞ্জাম বহনকারী একটি বিশেষ দল এসেছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে সিক্রেট সার্ভিস ও সিআইএ-র শীর্ষ কর্মকর্তারাও এখন ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গতকালই মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে বৈঠক করে বিদেশি অতিথিদের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি করা হয়েছে। 

এদিকে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দিতে পাকিস্তানের আকাশে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। ইসলামাবাদ সফরকালে ইরানের কর্মকর্তাদের ওপর যেন কোনো আকাশপথের হামলা না হয় তা নিশ্চিত করতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণী এই বৈঠকটি ঘিরে এখন গোটা বিশ্বের নজর ইসলামাবাদের দিকে।