এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গত তিন দিন ধরে উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশটি তাদের সমরাস্ত্র আধুনিকায়নে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে।
এবারের পরীক্ষায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ক্লাস্টার ওয়ারহেড থেকে শুরু করে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অস্ত্র ও কার্বন-ফাইবার বোমার কার্যকারিতা অত্যন্ত সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া থেকে ছোঁড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ২৪০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব দিকের সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এসব আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং এখন সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প অবকাঠামোকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে কার্বন-ফাইবার বোমা ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা মুহূর্তেই অচল করে দেওয়া সম্ভব।বিশ্লেষকদের মতে উত্তর কোরিয়া এই ধারাবাহিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত তাদের প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করতে চাইছে।
বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা দ্বিপাক্ষিক সংলাপ পুনরায় চালুর সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই নতুন রণকৌশল মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের ফলাফল থেকে অর্জিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উ মনে করেন ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুদ্ধের ময়দানে শুধু বিশাল সেনাবাহিনী থাকলেই হয় না, বরং উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রই চূড়ান্ত জয় নির্ধারণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও তাদের কৌশলগত অস্ত্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে না পারার কারণেই শেষ পর্যন্ত সংঘাতটি কোনো সমাধান ছাড়াই একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে গড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়া বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে যে আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুত থাকলে পরাশক্তিগুলোও সহজে সরাসরি আক্রমণ করার সাহস পাবে না। বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের সেই যুদ্ধকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছিল এবং সেই যুদ্ধের পরিণতিই এখন উত্তর কোরিয়াকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক অস্ত্রের পথে হাঁটতে উৎসাহিত করেছে। পিয়ংইয়ং এখন সেই একই নীতিতে অটল থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন