মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ফের ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

ফের ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে কঠোর ট্রাম্প

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এবার তেহরানের ওপর কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ বা মেরিটাইম ব্লকেড আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তীব্র অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং চীন ও ভারতের মতো বড় ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করাই হবে এই কৌশলের প্রধান লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক অবরোধ বলতে বোঝায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিপূর্বে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধেও একই ধরনের কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করার উদাহরণ টেনেছেন। সেই সময় সমুদ্রপথে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবার ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরণের কঠোর পরিকল্পনার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন প্রশাসন, যা তেহরানের প্রধান আয়ের উৎস জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে।এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চললেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। 

পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরানের বর্তমান অবস্থান মার্কিন প্রশাসনের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এদিকে আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করা হলে তা কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে। কারণ বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশই হয়ে থাকে সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেহরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।