বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

যে দেশকে নতুন শত্রু হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

যে দেশকে নতুন শত্রু হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে ইসরায়েল

সতর্কবার্তা দিলেন হাকান ফিদান

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানের পর ইসরায়েল তুরস্ককে তাদের নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। আঙ্কারায় আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি আয়োজিত ‘এডিটর’স ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফিদানের মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্রটি এমন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে যেখানে টিকে থাকার জন্য তাদের সবসময় একজন শত্রুর প্রয়োজন হয়। 

ওই অনুষ্ঠানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে তুরস্কের অবস্থান স্পষ্ট করেন।ফিদান তাঁর বক্তব্যে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো সুরক্ষিত করার বিষয়ে সামরিক পন্থার পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দেন।

 বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমোজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক পদক্ষেপকে তিনি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সারা বিশ্ব চায় আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো যেন অবাধ ও নিরাপদ থাকে। 

কিন্তু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই জলপথে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। আঙ্কারার অবস্থান হলো আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনা।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান একই সমান্তরালে আছে বলে মনে করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই বর্তমানে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন এবং তারা সংঘাত এড়াতে আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে। তবে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের জন্য গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানান ফিদান। সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

হাকান ফিদান আরও জানান, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে ইসরায়েল ব্যস্ত থাকায় সিরিয়ায় তাদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসরায়েল তাদের পরিকল্পনা বাতিল করেছে। বরং সময় সুযোগ বুঝে তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইবে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। ফিদান একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।