এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী মে বা জুন মাস নাগাদ বৈশ্বিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই নৌপথটি অবরুদ্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জেট ফুয়েলের এই তীব্র স্বল্পতার কারণে আগামী মে মাস থেকেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রুটের ফ্লাইট বাতিল শুরু হতে পারে।
আইইএ তাদের মাসিক পর্যালোচনায় সতর্ক করেছে যে, ইউরোপ যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের বিকল্প কোনো উৎস দ্রুত খুঁজে না পায়, তবে আগামী জুন মাসের মধ্যে তাদের মজুত ‘সংকটকালীন পর্যায়’ অর্থাৎ মাত্র ২৩ দিনের স্তরে নেমে আসবে। তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় অঞ্চল তাদের প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েলের ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার একটি বিশাল অংশ আসে এই হরমুজ প্রণালি হয়ে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আন্না-কাইসা ইকোনেন জানিয়েছেন, যদিও মহাদেশটিতে এখনো পুরোপুরি জ্বালানি ফুরিয়ে যায়নি, তবে দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ সংকট এখন অনিবার্য। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, দ্রুত এই রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত না হলে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক চরম অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। জ্বালানি সংকটে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন