এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
পারস্য উপসাগরের তলদেশে বিছানো সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল এবং ক্লাউড অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সম্প্রতি একটি বিশেষ মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
সামরিক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এই মানচিত্রটিকে কেবল সাধারণ তথ্যচিত্র হিসেবে দেখছেন না, বরং একে পারস্য উপসাগরের দেশগুলোর প্রতি তেহরানের একটি গোপন ও কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, হরমুজ প্রণালি এখন আর কেবল জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট নয়। এটি বর্তমান বিশ্বের ডিজিটাল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান করিডোর। এই পথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রধান ইন্টারনেট সংযোগগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের অর্থনীতি ও যোগাযোগের জন্য সমুদ্রের নিচের এই কেবল ব্যবস্থার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যা তাদের বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল কোনো কারিগরি তথ্য প্রচার নয়, বরং এটি একটি পরিষ্কার কৌশলগত বার্তা। এই মানচিত্রে যেভাবে সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডেটা সেন্টারগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাতে এগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড অবকাঠামো বা ডেটা সেন্টারগুলোতে কোনো ধরণের বিঘ্ন ঘটলে তা ওই অঞ্চলের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত। এই উত্তেজনার মধ্যেই ডিজিটাল অবকাঠামোতে হামলার প্রসঙ্গটি সামনে এলো। সাম্প্রতিক কিছু অসমর্থিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত আমাজন ওয়েব সার্ভিসের (এডব্লিউএস) বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি কেন্দ্র বা সমুদ্রপথের প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে এখন সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ও ডেটা সেন্টারগুলো সংঘাতের নতুন রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। যদি কোনো কারণে এই কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক ইন্টারনেট ট্রাফিকের ওপরও এর প্রভাব পড়বে। তাসনিম নিউজের এই মানচিত্র প্রকাশ মূলত ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে চাপের মুখে রাখার একটি নতুন কৌশল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি যে কোনো সময় জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন