মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানে পারমাণবিক হামলা নিয়ে যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

ইরানে পারমাণবিক হামলা নিয়ে যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘মূর্খতাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক হামলার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের কোনো দরকার যুক্তরাষ্ট্রের হবে না। তিনি যুক্তি দেন যে, যখন প্রচলিত সামরিক শক্তি বা প্রথাগত যুদ্ধ কৌশলের মাধ্যমেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, তখন কেন পারমাণবিক অস্ত্রের মতো ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হবে? 

তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো অবস্থাতেই কোনো পক্ষেরই পারমাণবিক হামলা করা উচিত নয়। এটি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।ইরান ইস্যুতে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প জানান, তেহরানের সাথে চলমান সংঘাত শেষ করার বিষয়ে তার ওপর কোনো বাহ্যিক চাপ নেই। 

তিনি ইরানের সাথে বিশ্বের সবচেয়ে ‘শক্তিশালী ও ভালো’ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে নেওয়া পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ইরান কোনো চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত এই নৌপথটি উন্মুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই।তেহরানের অর্থনৈতিক শক্তির ওপর আঘাত হানার বিষয়েও ট্রাম্প কথা বলেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার এই সময়ে ইরান যেন তেল বিক্রি করে প্রতিদিন শত শত মিলিয়ন ডলার আয় করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই তার অন্যতম লক্ষ্য। 

ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার আয় করবে আর চুক্তি করবে না—এমন পরিস্থিতি তিনি হতে দেবেন না। এই অর্থ প্রবাহ বন্ধ রাখতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান।পরিশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি না হয়, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই এই যুদ্ধের ইতি টানবেন। সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে সামরিক সমাধানকেই তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে তুলেছে।