এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তেহরান নৌপথের শত্রুকে নির্মূল করবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত করতে নতুন বিধি-বিধান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আসবে।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পারস্য উপসাগরীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি পারস্য উপসাগরকে এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর জন্য এক অপরিহার্য আশীর্বাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই জলরাশি এবং হরমুজ প্রণালি তাদের পরিচয় ও সভ্যতার একটি অংশকে রূপ দিয়েছে। জাতিসমূহের সংযোগস্থল হওয়ার পাশাপাশি এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য পথ তৈরি করেছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে খামেনি বলেন, এই কৌশলগত সম্পদটি বিগত শতাব্দীগুলোতে বহু শয়তানের লোভকে উস্কে দিয়েছে। ইউরোপীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা বারবার আগ্রাসন, নিরাপত্তাহীনতা এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি অসংখ্য হুমকির ইতিহাস হলো বিশ্বের দাম্ভিক শক্তিগুলোর অশুভ চক্রান্তের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। যার সর্বশেষ উদাহরণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আচরণ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত করবে এবং এই জলপথে শত্রুপক্ষের অপব্যবহার নির্মূল করা হবে। এখন থেকে এই জলপথটি নতুন নিয়মকানুন দ্বারা পরিচালিত হবে। হরমুজ প্রণালির আইনগত নিয়মকানুন এবং নতুন ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ এই অঞ্চলের সকল জাতির কল্যাণে স্বস্তি ও অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জাতিসমূহ গত ষাট দিনে নিজ চোখে দেখেছে কিভাবে বিদেশি আধিপত্য প্রত্যাখ্যানের লড়াইয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আইআরজিসির সেনারা লড়াই করেছে। তিনি দাবি করেন, এই অঞ্চলে আমেরিকানদের উপস্থিতি এবং তাদের ঘাঁটি গাড়াই নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালে ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো বিধ্বস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে খামেনি বলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর নিজেদের সুরক্ষিত রাখার মতো সক্ষমতাই শেষ, সেখানে তাদের ওপর আঞ্চলিক মিত্রদের ভরসা করার কোনো সুযোগ নেই।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন