মে ১৫, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে আগ্রহী বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারের লেনদেনে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১৭ সেন্ট বেড়ে ১০৬ ডলার ৮৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১০ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০২ ডলার ২৭ সেন্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যে। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, চীনের জন্য আমেরিকান জ্বালানি তেলের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা বিপুল পরিমাণ তেল কিনতে আগ্রহী। এই বার্তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
তবে কেবল ট্রাম্পের মন্তব্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও জাহাজ আটক নিয়ে চলমান উদ্বেগ তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ৩০টি জাহাজ চলাচল করেছে। তবে এই তথ্যের পরও ওই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শঙ্কা কাটেনি। জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বাজারদরে প্রভাব ফেলছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন যদি বড় পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনা শুরু করে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে একদিকে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক নীতি এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি—এই দুই বিষয় জ্বালানি তেলের বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। গতকালের তুলনায় আজ তেলের দামের এই পরিবর্তন বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন