মে ২১, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রয়োজনে যেমন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করবে, ঠিক তেমনি সময় এলে কূটনীতির স্বার্থে আলোচনার টেবিলেও বসতে পিছপা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি দেশের সামরিক বাহিনী, কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর অর্পিত এই কৌশলগত নীতিকে একটি পবিত্র ও মূল দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুধবার (২০ মে) রাজধানী তেহরানে দুই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি এবং হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানের স্মরণে আয়োজিত এক বিশেষ শোক অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। এই দুই কিংবদন্তি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন সম্প্রতি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এবং অন্যজন মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত দুই মন্ত্রীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে আরাঘচি তাদের পেশাগত দক্ষতা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতা এবং উচ্চ নৈতিক মানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উপস্থিত কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, তারা রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যবস্থা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যগুলোর সাথে পূর্ণ সমন্বয় রেখেই নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে কূটনীতি, সংলাপ এবং আলোচনার ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হলে তারা পূর্ণ শক্তি নিয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাজির হবেন। দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেমন প্রবল পরাক্রমে শত্রুর হাত থেকে দেশ রক্ষায় আবির্ভূত হয়, কূটনৈতিক টেবিলেও তেহরান ঠিক সেই একই শক্তির প্রমাণ রাখবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সাম্প্রতিক আগ্রাসন, কঠিন যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতি পরবর্তী জটিল দিনগুলোতে দেশের ভেতরে ও বাইরে কর্মরত কূটনীতিকসহ সমগ্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অসামান্য অবদানের জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরাঘচি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, খোদ আমেরিকান কর্মকর্তারাও এখন প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন যে ইরানিরা কূটনৈতিক অঙ্গন এবং গণমাধ্যমের যুদ্ধে অভূতপূর্বভাবে জয়লাভ করেছে। তার মতে, ‘যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং গণমাধ্যম’—এই ত্রিভুজটি সবসময় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধে এতে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে ‘রাস্তা’ বা সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি যুক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় ইরানি জাতির এই অমূল্য ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন দেশের প্রতিরক্ষা, সামরিক ও কূটনৈতিক বাহিনীকে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন