মে ১৫, ২০২৬, ১২:১৮ এএম
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকের শুরুতেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরান ও নয়াদিল্লির মধ্যকার ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন।
আরাঘচি তাঁর বক্তব্যে চলমান অস্থিতিশীলতা নিরসনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে এই সংকটের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য পরিণতির একটি চিত্র তিনি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শান্তির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। মোদি উল্লেখ করেন যে, ভারত সবসময়ই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।প্রধানমন্ত্রী মোদি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ভারতের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যেকোনো ইতিবাচক অবদান রাখতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ভারত ও ইরান দুই দেশই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের মধ্যকার শক্তিশালী সম্পর্ক আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। ভারত এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে মধ্যস্থতা বা যেকোনো গঠনমূলক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার মানসিকতা রাখে বলে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের এই বিশেষ বৈঠকটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির গতিপ্রকৃতি এবং ভারতের নিরপেক্ষ ও প্রভাবশালী কূটনীতির মেলবন্ধন এই অঞ্চলে নতুন কোনো মেরুকরণের সংকেত দিচ্ছে। বৈঠকে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোও পরোক্ষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের নেতার এই আলোচনা ভবিষ্যতে ভারত ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
এর আগে আব্বাস আরাঘচি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে আসা অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর এই বিশেষ বৈঠকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশেষ নজর কেড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত একটি ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। ভারত ও ইরান উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, যেকোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজন। আঞ্চলিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন