বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ৮, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন।গতকাল রোববার প্রচারিত এনবিসি নিউজের অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। 

তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, জব্দ থাকা অর্থ নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সমঝোতার সুযোগ আপাতত কম।ট্রাম্প বলেন, ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি কেবল চুক্তি হওয়ার পরই বিবেচনায় আসবে। তিনি আরও বলেন, তারা যদি ভালো আচরণ করে এবং ভালো কাজ করে, তবেই আলোচনা শুরু হবে।

অন্যদিকে ইরান বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের জব্দ থাকা সম্পদের অন্তত একাংশ অবমুক্ত না হলে চুক্তি না–ও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে গভীর অবিশ্বাসের কারণে তারা এই অবস্থানে রয়েছে।পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা সামরিক অভিযান চালায়। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে আছেন। ট্রাম্প অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন সমঝোতা কাছাকাছি, তবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তেমন অগ্রগতি নেই।

কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেও ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা হয় চুক্তির খুব কাছাকাছি, নয়তো ভয়াবহ হামলার দিকে যাচ্ছি।অপরদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল তেহরানের। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি জানাচ্ছে। রেজায়ী এই অর্থছাড়কে বিশ্বাসের পরীক্ষা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।গত এপ্রিলের পর সংঘাত অনেকটা থেমে থাকলেও পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতায় এখন এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।