রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: শাহবাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১৩, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: শাহবাজ

দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান নিবিড় আলোচনার ভিত্তিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি বৈশ্বিক রাজনীতির এই বড় অগ্রগতির কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। 

দুই দেশের মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমন করবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই দুই পক্ষ অনলাইনের মাধ্যমে এটি স্বাক্ষর করতে পারে।ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আগামী সপ্তাহেই দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কারিগরি পর্যায়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চলমান এই সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের ইতিবাচক অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোর আন্তরিক সমর্থনের জন্য তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুই শক্তির মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্কের বরফ গলার এই ইঙ্গিতকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর কূটনৈতিক বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন যে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। পরমাণু কর্মসূচি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো এই সমঝতার মূল শর্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন কাছাকাছি আসার খবরটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির সার্বিক অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো গভীর নজর রাখছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা