রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তিতে ইসরায়েলে তীব্র ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১৬, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তিতে ইসরায়েলে তীব্র ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান গত রবিবার গভীর রাতে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পরদিন সোমবার সকাল থেকেই ইসরায়েলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেআনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।কিন্তু এই চুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে সম্পূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন এবং ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি জানান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।ইসরায়েলি কর্মকর্তারা চুক্তির শর্তগুলো মানতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েল এই শর্ত মানতে বাধ্য নয় এবং লেবানন নিয়ে ইরানের কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ধারাবাহিক বিমান হামলা শুরু করেছে। 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, তাদের সেনাবাহিনী কোনো সময়সীমা ছাড়াই লেবানন, সিরিয়া এবং গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অবস্থান করবে।চুক্তিটি নিয়ে উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তিকে ইসরায়েল ও পুরো মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর বলে আখ্যা দিয়ে একাই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির দাবি করেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অধীনস্থ রাষ্ট্র নয় এবং এই চুক্তি তাদের নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারবে না। 

অন্যদিকে সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর জানান, নিরাপত্তা বিপন্ন হলে তারা ইরানের ওপর তীব্র আঘাত হানবেন। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরোধী দল ও ডানপন্থী শিবিরের নেতাদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই সুযোগে তাঁর যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন। মধ্য-বামপন্থী দল দ্য ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে দুর্বল ও জনবিচ্ছিন্ন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই চুক্তি নেতানিয়াহুর বহু বছরের ভুল নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালী বেনেটও বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই