জুন ১৯, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ইরানের কঠিন হুমকি এবং মার্কিন প্রশাসনের ক্রমাগত তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে এই যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের এই উদ্যোগকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।এই দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
অন্য একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইরানও সরাসরি এই চুক্তির মধ্যস্থতায় যুক্ত ছিল। নতুন এই যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন তেল আবিব স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত আগের সমঝোতা স্মারক দ্বারা কোনোভাবেই দায়বদ্ধ নয়। সেই চুক্তিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শত্রুতা বন্ধ করার পাশাপাশি লেবাননেও একপ্রকার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ছিল। তবে আজ শুক্রবার বিকেলে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন মুখপাত্র এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন দাবি করেছেন যে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো ধরণের নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান বা রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কাজ চালানো হচ্ছে এবং সেই আদেশে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত সামরিক কার্যক্রম একইভাবে অব্যাহত থাকবে। সংবেদনশীল এই বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কূটনীতিবিদ জানিয়েছেন যে তিন দেশের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষ সংঘাত বন্ধ করতে শেষ পর্যন্ত সম্মত হয়। একজন জ্যোষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে যথাক্রমে ইসরায়েল ও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তিটি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী যাতে অন্তত ১৬ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। এরপরই আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর এর মারাত্মক পরিণতির বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে পুরো পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করে তেহরান। এই ঘটনার পর ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে মার্কিন প্রশাসন যা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্রমাগত বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও লেবাননে ইসরায়েলের এই ব্যাপক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে কেবল একজন যোদ্ধাকে খোঁজার জন্য ইসরায়েল পুরো একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস করতে পারে না।
তথ্যসূত্র: সিএনএন

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন