মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন ৪ কোটির বেশি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন ৪ কোটির বেশি মানুষ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে চার কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে টানা ছয় দিনব্যাপী চলমান এই শোক মিছিলকে মানব ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমাগম ও জানাজা হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিদায় আনুষ্ঠানিকতা।কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদ — এই পাঁচটি প্রধান শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে খামেনির বিদায় ও দাফন প্রক্রিয়া। এর মধ্যে ইরাকের নাজাফ ও কারবালাতেই প্রায় এক কোটি মানুষ সমবেত হয়েছিলেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক সন্ত্রাসী হামলায় সপরিবারে খামেনির মৃত্যুর পর, দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে শুক্রবার থেকে তার শেষ বিদার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৪৫টিরও বেশি দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রযুক্তিগত তথ্য ও মোবাইল সিগন্যাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিশাল জনসমাগমের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ। এর আগে খামেনির দাফন উপলক্ষে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণেও হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, যেখানে শোক ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। এই দীর্ঘ শোকযাত্রার মধ্য দিয়ে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সংহতির বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর খামেনি ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা নিজের কার্যালয়ের অধীনে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। তার বিদায়ের পর দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা চলছে। চলমান উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে আয়োজিত এই বিশাল শোকানুষ্ঠান দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।