অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতভর দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রুশ বাহিনী। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত পাঁচটি নিষ্পাপ শিশু রয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায়। সেখানে একটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে সরাসরি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণের আঘাতে পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটির জানালার কাচ গুঁড়িয়ে যায় এবং পুরো অবকাঠামোর অর্ধেকাংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব স্তূপে পরিণত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস বা এক বছর এবং একজনের বয়স ছিল আট বছর।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রাণহানির পাশাপাশি এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু সাধারণ মানুষ। আহতদের তালিকায় অন্তত সাতটি শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন যে মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবেই সামরিক স্থাপনা বাদ দিয়ে সাধারণ বেসামরিক শহর ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, আমাদের দেশ, সাধারণ মানুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ মূলত ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে আঘাত হানতে শুরু করে রুশ বাহিনী। হামলায় বেঁচে যাওয়া ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে তাদের জানালার কাচ উড়ে যায়। নিজের শরীর দিয়ে শিশু সন্তানকে ঢেকে রাখায় সে প্রাণে রক্ষা পায়, যদিও তার স্বামী ও তার শরীরে ক্ষত তৈরি হয়েছে। ভয় ও আতঙ্কে তাদের সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পুরো বাড়ি তছনছ হয়ে যাওয়ার সময় তারা বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া বড় ধরনের সমন্বিত আক্রমণ চালাতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
শীত মৌসুম এগিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানী কিয়েভজুড়ে হামলার মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শহরটিতে অনবরত বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। চরম আতঙ্কে থাকা বাসিন্দারা রাতের বেলা কম্বল, মাদুর ও প্রয়োজনীয় ব্যাগ নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো জানান, পুরো কিয়েভ শহর এক অবর্ণনীয় আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কর্মস্থলে থাকা অবস্থাতেই সহকর্মী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সতর্ক থাকার জরুরি বার্তা আসছিল।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩০টি ড্রোন দিয়ে আগ্রাসন চালায় রুশ বাহিনী।
চলমান সংঘাতের অন্যতম নৃশংস হামলা আখ্যা দিয়ে জেলেনস্কি জানান, অধিকাংশ ড্রোন ও সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা গেলেও ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করাই এখন সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় মিত্রদের কাছ থেকে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ইউলিয়া শামরাই ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, আবাসিক ভবনে এই নির্মম হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ঠিক কী ধরনের সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হলো তা কারো বোধগম্য নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন