শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,
আন্তর্জাতিক জ্বালানি কূটনীতি

রুশ ডিজেল আমদানির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের, ইউক্রেনকে হামলা বন্ধের চাপ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

রুশ ডিজেল আমদানির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের, ইউক্রেনকে হামলা বন্ধের চাপ ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলা বন্ধের জন্য কিয়েভকে চাপ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথও উন্মুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা প্রশমনের নিশ্চয়তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা স্পষ্ট দুর্বলতার পরিচয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ট্রাম্পের মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা এবং ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার আক্রমণ সমতুল্য বিষয় নয়।

শুক্রবার ফ্লোরিডার মায়ামিতে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আট ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠকে অংশ নেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে তারা জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। এরপর রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

পুতিনের সঙ্গে ওই ফোনালাপকে ইতিবাচক উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, রাশিয়া দ্রুততম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে পরবর্তী চালানগুলোর সরবরাহ রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জেনারেল লাইসেন্স ১৩৫ জারি করেছে। এই আদেশের আওতায় ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ায় উৎপাদিত ডিজেল কেনাবেচা, সরবরাহ, জাহাজ থেকে খালাস এবং আমদানিসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উত্তেজনা নিরসনের স্থায়ী চুক্তি ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রতিপক্ষের কাছে নতি স্বীকারের শামিল। তবে তিনি এ কথাও স্পষ্ট করেছেন যে, মস্কো যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর বিমান হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আক্রমণ চালাবে না।

এদিকে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে কিয়েভকে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে বৈঠকে সতর্ক করেছিলেন উইটকফ ও কুশনার।

তবে এ ধরনের কোনো হুঁশিয়ারির কথা অস্বীকার করেছেন হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তার দাবি, বৈঠকে প্রতিনিধিরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মিত্র ইউক্রেনের পাশে রয়েছে। কেবল মার্কিন ভোক্তাদের ক্ষতি ডেকে আনে, এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে ইউক্রেনকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।