বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

জুলাই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড জয় ও পলক: চিফ প্রসিকিউটর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

জুলাই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড জয় ও পলক: চিফ প্রসিকিউটর

ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

এদিন মানবতাবিরোধী অপরাধে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।চিফ প্রসিকিউটর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যখন সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তখন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আইসিটি বিভাগকে ব্যবহার করা হয়। 

সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলক উভয়েই এই বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁদের নির্দেশেই সারা দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন বা ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। 

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই গণহত্যা ও ষড়যন্ত্রের মূলে ছিল একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী চক্র। তাজুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে পলক ও জয় এই হত্যাযজ্ঞের নীল নকশা তৈরি করেছিলেন। প্রসিকিউশন এই মামলার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও দালিলিক নথিপত্র আদালতে জমা দিয়েছে। 

এই প্রমাণগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে, ইন্টারনেট বন্ধ করা কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি ছিল না, বরং এটি ছিল গণহত্যার একটি পরিকল্পিত অংশ।উল্লেখ্য, আজ সকালে কড়া নিরাপত্তায় জুনাইদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশন তাঁদের সূচনা বক্তব্যে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।